ভবপাগলার শূন্য সমাধি— কালনায় অলৌকিক আশ্রম ও সাধনকথা


📌 চ্যানেল: Ranadip Das Vlog
🗓️ সময়কাল ও স্থান: ২০২৪ সালের গ্রীষ্মকাল, কালনা, পূর্ব বর্ধমান জেলা

🕉️ এক অলৌকিক সকালের সূচনা
সকালবেলা আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল এক মন্ত্রমুগ্ধ আলোয়। আমরা পৌঁছলাম ভবপাগলার আশ্রম — যেখানে রয়েছে ভবপাগলার শূন্যের উপর সমাধি, যা একেবারে অনন্য এক আশ্চর্য নির্মাণ। জীবিত থাকাকালীন নিজেই তিনি এই সমাধি তৈরি করে গেছেন, যেখানে তাঁর দেহ আজও উত্তরমুখে শুয়ে আছে — মাটির কোনও স্পর্শ ছাড়াই।

🔱 ভবপাগলা: সাধনার এক প্রতীক
ভবিন্দ্র মোহন চৌধুরী জন্মেছিলেন পূর্ববঙ্গের আমতা গ্রামে, পরে এসে উঠেছিলেন উত্তর কলকাতায় এবং অবশেষে আশ্রয় নেন কালনায়। এখানেই তিনি প্রতিষ্ঠা করেন তালে-বটে গাছে ঘেরা এক আশ্রম, যেখানে আজ ভবানী মন্দির এবং তাঁর সহধর্মিণীর জন্য শৈবলিনী মন্দির স্থাপন রয়েছে। আশ্রম জুড়ে তাঁর হাতে আঁকা চিত্র, সূচীশিল্প, পাণ্ডুলিপি, এবং প্রাচীন গান যেন ইতিহাসের সাক্ষী।

🌸 শূন্যে ভাসমান সমাধির অলৌকিকতা
এই সমাধি মন্দিরটি পৃথিবীর বিরলতম স্থাপনাগুলির একটি, কারণ এটি শূন্যে ভাসমান, মাটির সংস্পর্শ ছাড়াই স্থাপিত। ভবপাগলার ভাষায়, "মরণ কারোর কথা শোনে না" — তাই মৃত্যুর আগে থেকেই স্মরণ করে রাখার জন্য তিনি নিজেই এই প্রস্তুতি নেন। এটি যেন মৃত্যুর মধ্যেও জীবনের বাণী শুনিয়ে যায়।

🚩 যেভাবে পৌঁছাবেন:
হাওড়া-বর্ধমান মেইন লাইনের কালনা স্টেশন থেকে রিকশা/অটো করে সহজেই পৌঁছে যেতে পারেন ভবপাগলার আশ্রমে। স্থানীয় লোকজন খুব আন্তরিক, আপনাকে পথ দেখাতে সাহায্য করবে। আশ্রমে ভক্তদের জন্য বসার ও দর্শনের সুব্যবস্থাও রয়েছে।

🕊️ ভবের পাগলা: গান, ভাবনা ও আত্মার শুদ্ধি
ভবপাগলা শুধু সাধক ছিলেন না, তিনি ছিলেন সঙ্গীতসাধনার এক নিরবধি উৎস। তাঁর লেখা অসংখ্য গান আজও বাউল, ফোক এবং আধ্যাত্মিক পরিবেশনার প্রাণ। এই আশ্রমে প্রতিটি কোণেই যেন তাঁর স্পর্শ রয়েছে — তাঁর পূর্ণাবয়ব মূর্তি, বিশ্রামকক্ষ, ভক্তদের চিঠি, সবকিছুই তাঁর উপস্থিতিকে অনুভব করায়।

📣 পাঠকের জন্য বার্তা:
এই ভিডিও ও ভ্রমণ আপনাকে যদি হৃদয় ছুঁয়ে যায়, তাহলে মন্তব্য করে জানান। ভবপাগলার স্মৃতিকে আরও বেশি মানুষের মাঝে পৌঁছে দিতে শেয়ার করুন আপনার প্রিয়জনদের সঙ্গে। চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে ভুলবেন না, কারণ এমন অনেক বিস্ময় অপেক্ষা করছে ভবিষ্যতের যাত্রায়।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url