মলুটী মন্দিরগ্রাম— ঝাড়খণ্ডের ইতিহাসে হারানো শিল্প ঐতিহ্য
📌 চ্যানেল: Ranadip Das Vlog
🗓️ সময়কাল ও স্থান: মলুটী, দুমকা, ঝাড়খণ্ড
🕉️ শুরু: ১০৮ মন্দিরের ঐতিহাসিক গ্রাম
ঝাড়খণ্ডের গহীনে, সীমান্ত ঘেঁষা এই মলুটী গ্রাম ইতিহাসের এক জ্যান্ত দলিল। রাজা বাজ বসন্তের রাজত্বে নির্মিত ১০৮টি মন্দির আজও বহন করছে শিল্প, সাধনা ও স্থাপত্যের ঐতিহ্য। বর্তমানে ৭২টি মন্দির টিকে আছে, প্রতিটি মন্দিরে দৃশ্যমান টেরাকোটার চিত্রকল্প এবং গঠনশৈলী এক অন্য রকম মুগ্ধতা তৈরি করে।
🔱 ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় প্রেক্ষাপট
এই গ্রামটি মূলত নানকর রাজাদের রাজধানী ছিল। বসন্ত রায়, যিনি পরে “বাজ বসন্ত” নামে পরিচিত হন, সম্রাট আলাউদ্দিন হোসেন শাহের থেকে এই এলাকা উপহার পেয়েছিলেন। তিনি রাজপ্রাসাদের বদলে মন্দির নির্মাণে বিশ্বাস করতেন। বিভিন্ন বংশধররা সেই ঐতিহ্য বজায় রেখে শতাধিক মন্দির নির্মাণ করেন। মৌলিক্ষা মন্দিরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তারাপীঠের বামাক্ষ্যাপার সাধনার ইতিহাসও।
🌸 দর্শন ও অভিজ্ঞতা
মন্দিরগুলির স্থাপত্য দ্রাবিড় ও নাগারা শৈলীর সমন্বয়ে গঠিত। এখানে রয়েছে শিব, কালী, দুর্গা ও বিষ্ণুর নানা রূপের উপাসনাস্থল। কালীপূজার সময় ১০৮টি বলির ঐতিহ্য এখানকার নিজস্ব সংস্কৃতির অংশ। টিলা নদীর ধারে পাওয়া গেছে প্যালিওলিথিক যুগের অস্ত্রশস্ত্র, যা এই অঞ্চলের প্রাচীনতাকে আরও সমৃদ্ধ করে।
🚩 যেভাবে পৌঁছাবেন
হাওড়া থেকে রামপুরহাট এসে একটি টোটো ভাড়া নিন—মাত্র ১৬ কিমি দূরে অবস্থিত মলুটী গ্রাম। দুমকা থেকেও পৌঁছানো যায়, তবে রামপুরহাট রুট সবচেয়ে সহজ। তারাপীঠ থেকে দিনশেষে ফিরে থাকা এবং পরদিন তারামায়ের দর্শন নেওয়া যেতে পারে।
🕊️ অনুভব
মলুটী শুধু মন্দিরের গ্রাম নয়, এটি এক জীবন্ত ইতিহাস। এখানকার প্রতিটি ইট, প্রতিটি মন্দির আমাদের নিয়ে যায় অতীতের সেই সমৃদ্ধ শিল্প, তন্ত্রসাধনা ও বিশ্বাসের জগতে। এই ভিডিওটি শুধুমাত্র একটি ভ্রমণ নয়, এটি বাংলার পাশের রাজ্যের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে পুনরুদ্ধার করার এক প্রয়াস।
📣 পাঠকের জন্য বার্তা
ঝাড়খণ্ডের অজানা গন্তব্য Maluti নিয়ে এমন আরও ঐতিহাসিক ভিডিও পেতে Ranadip Das Vlog চ্যানেলটি Subscribe করুন এবং শেয়ার করুন আপনার বন্ধুদের সঙ্গে!